মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

পীর হবিবুর রহমান আমাদের গর্ব আমাদের আহংকার

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের কিংবদমত্মী পুরম্নষ জনন্দিত নেতা হবিবুর রহমানের বাড়ী লালাবাজার ইউনিয়নের বাঘরখলা গ্রামে। ক্ষৃদ্র-দারিদ্র্য - অশিক্ষ - বেকারত্বমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ সমাজ ও দেশ গঠনের স্বপ্নে বিভোর আজীবন আপোষহীন এ  সংগ্রামী ব্যক্তিত্বের জন্ম ১৯৭২ সালের ৯ অক্টোবর। তাঁর পিতার নাম পীর মোহাম্মদ ইয়াহিয়া এবং মাতার নাম হাসনা বানু। পীর হবিবুর রহমান জালালপুর মাদ্রাসা , সিলেট সরকারী হাই মাদ্রাসা ও সিলেট এম, সি কলেজে লেখাপড়া করেছেন। তিনি এম ই মাদ্রাসা ফাইনাল পরীক্ষায় সমগ্র আসামের মধ্যে চতুর্থ স্থান  এবং সিলেট হাই মাদ্রাসা থেকে ১৯৪৬ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসাম প্রদেশে সপ্তম স্থান অধিকার করেন। অতঃপর তিনি এম সি কলেজ থেকে ১৯৪৯ সালে আই এ পরীক্ষার্থী ছিলেন। নির্বাচনী পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেও তিনি ফাইনাল পরীক্ষ দিতে পারেননি। নন-কলেজিয়েট  হওয়ার কারণে অধ্যক্ষ মহোদয় তাঁকে আই এ ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে দেন নি। এখানেই তার আনুষ্ঠানিক লেখাপড়ার ইতি ঘটে। মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে পীর হবিবুর রহমানের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ। তিনি ছিলেন মুসলিম লীগের একজন সক্রিয় কর্মী, পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুসলিম লীগের প্রতি তার মন  বিষিয়ে ওঠে। এমন সময় গঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। তিনি  সিলেটে তা গঠনে অগ্রণী ভহমিকা  পালন করেন। পীর হবিবুর রহমান ছিলেন সিলেটের মহান ভাষা  আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন। ১৯৫৬  সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরের বছর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠনেও তার ছিল বিরাট ভহমিকা। ১৯৬৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিসত্মান ন্যাপের সহ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সহ সভাপতি হন ১৯৭৩ সালে। ১৯৭৭ সালে হন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন অংশের সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তী সময়ে হন এনএপি’র আহবায়ক, ন্যাপের সভাপতি মন্ডলির সদস্য হিসেবেও তিনি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গণতন্ত্রী পার্টিও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ঐতিহাসিক  নানকার আন্দোলনের পর পীর হবিবুর রহমান কৃষক সমিতিতে যোগ দেন। ১৯৭৪ সালে এর সভাপতি হন। এছাড়া ১৯৪৭ সালে গণতান্ত্রিক যুবলীগ এবং ১৯৫১ সালে যুবলীগ গঠনে তার চিল সক্রিয় ভুমিকা। সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়ন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক। ১৯৫০ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দমনে তিনি পালন করেন অত্যমত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ ভহমিকা। তিনি এক পর্যায়ে  কমিউনিস্ট পার্টিও সদস্য পদও গ্রহন করেছিলেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে পীর হবিবুর রহমানের অবদান উজ্জ্বল হয়ে আছে। তিনি ১৯৫১ , ১৯৫৪, ও ১৯৬০ সালে কারাবরণ করেন। এছাড়া আত্মগোপনে কাটান অনেক দিন। একজন ভাল লেখক হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ১৯৮৬ সালে তিনি সিলেট-৩ আসনে  থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  পীর হবিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে অন্যতম  শীর্ষস্থানীয় সংগঠকের ভহমিকা পালন করেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ কীর্তিমান রাজনীবিদ ২০০৪  সালের ১৬ই ফেব্রয়ারী রোজ সোমবার ভোর ৪.৩৩ মিনিটে অগণিত গুণগ্রাহী ও ভক্তকুল রেখে চলে যান পরপারে। (ইন্নালিলস্নাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।


Share with :

Facebook Twitter